Logo
শিরোনাম ::
বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি মাদারীপুর জেলা শাখার নির্বাচন- ২০২৫ অনুষ্ঠিত উপকূলীয় অঞ্চলে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে সভা অনুষ্ঠিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ হাসিবের পরিবারের অনুদান না পাওয়ায় সংবাদ সম্মেলন আজ খোলা থাকবে সরকারি – বেসরকারি সব অফিস মাদারীপুরে বার্তা সময় ২৪.কম এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের পিতার মৃত্যুতে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত পালাগানের আসর থেকে বিলাসী জীবনে মমতাজ ডঃ ফিলিপ কোটলার এর নতুন বইয়ে “বসুন্ধরা টিস্যু কেইস স্টাডি” হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত রূপগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গাজীর মুঠোয় জিম্মি, মুক্তি চায় অভিভাবকগণ। মাদারীপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত এবং উক্ত দিবসে শ্রেষ্ঠ আইনজীবী নির্বাচিত আপন আলোয় আলোকিত একজন আইনজীবী এ্যাড. গোলাম কিবরিয়া
নোটিশ ::
সারা দেশে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের বাইরে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। অতিসত্বর যোগাযোগ করুন ০১৬২৬২২৭২১৬, সিভি মেইল করুন bartasomoy24@gmail.com.

মাদারীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা – মোঃ মিয়াজউদ্দিন খান আর নেই।

মাহবুবুর রহমান / ৪৭০ বার
আপডেট সময় :: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০

মাদারীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা – মোঃ মিয়াজউদ্দিন খান আর নেই।

আজ  রাত ১ঃ৩০ মিনিটের সময় সিএম এইচ   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়বীর মুক্তিযোদ্ধা – মোঃ মিয়াজউদ্দিন খান ইন্তিকাল করেছেন।ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন। তিনি স্ত্রী,দুই ছেলে, ও এক মেয়ে,নাতি- নাতনি সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছন। মৃত্যু কালে মরহুমের বয়স হয়েছিলো ৭১ বছর।  তার মৃৃত্যুতে মাদারীপুর জেলাসহ তার নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

উল্লেখ্য যে গত কয়েক দিন আগে  তিনি বাসায় নিমুনিয়া জনিত কারনে ১৪ ই জুলাই অসুস্হবোধ করলে তাকে সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হলে তার শরীরের অবস্থা আরো অবনতি দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউতে রেফার করেন। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রাত ১ঃ৩০ ঘটিকার সময় ইন্তেকাল করেন।

তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার সাহেব রামপুর গ্রামে এক মুসলিমপরিবারের  ১৯৪৯ ইং সালে জন্ম  গ্রহন করেন তার পিতার নাম মরহুম আমজেদ আলী,মাতার নাম মরহুম সোনা বরু। মৃত্যু কালে ২ ছেলে ও ১ মেয়ে এবং স্ত্রী কে রেখে গেছেন।বড় ছেলে কে এম ইকবাল মনি, ছোট ছেলে কেএম শাখাওয়াত মুন ( প্রধান মন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব – ২) ও মেয়ে  মোসাঃ নাসরীন মিয়াজ মেরী (বিবাহিতা)  জামাতা লেঃ কর্ণেল মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী  নাছিরা বেগম মিনু একজন গৃহিণী।

মরহুমের মৃত্যু তে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,স্হানীয় সাংসদ, জেলা পরিষদের কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দ। এবং বিভিন্ন সামাজিক, সংস্কৃতিক,ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লতিফা ইয়াছমিন ও  জেলা পরিষদের  সার্বেয়ার মোঃ সিরাজুম মনির
(bsomoy24.com – বার্তা সময়২৪. কম)কে জানান চেয়ারম্যান স্যার খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন। এক কথায় অসাধারণ তার মত দ্বিতীয় কোন ব্যাক্তি হবে কি না জানি না। আল্লাহ স্যার কে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।

জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য আমেনা খাতুন বেবি ও জেলা পরিষদের  সদস্য মোঃ শামসুল আলম (নান্নু)  মাতুব্বর বলেন। তার মৃত্যু তে জেলা পরিষদের এক অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। তাই মহান আল্লাহ তার এই গোলামকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হিসাবে কবুল করুন।আমিন।

জন্মঃ মাদারীপুর জেলাধীন কালকিনি উপজেলার সাহেব রামপুর ইউনিয়নের সাহেব রামপুর গ্রামে তিনি ১৯৪৯সনের ২ শে ফেব্রুয়ারী সম্ব্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নামঃ আমজেদ খান,মাতার নামঃ সোনাবরু, চার বোন, কোন ভাই নেই, তিনিই সর্ব কনিষ্ট,

শিক্ষা জীবনঃ১৯৬৩ সালে ধামুরা বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উজিরপুর থেকে এস.এস.সি ও গোরনদী কলেজ বরিশাল থেকে ১৯৬৯ এইচ এস সি এবং ১৯৭২ ইংসালে তিনি  ডিগ্রি পাশ করেন।

মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহণঃ তিনি ১৯৭১ সনে ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে কমান্ড্যান্ড হিসাবে স্বতঃফূতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পাক হানাদার বাহীনিদের পরাজিত করে লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনেন।
চাকুরী জীবনঃ ১৯৭৪ সালে ১জন কর্মকর্তা হিসাবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের অফিসার ট্রাস্ট এস্যোসিয়েশনের ৫ বার জেনারেল সেক্রেটারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবশেষে একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসাবে ২০০৬ সনে অবসর গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক জীবনঃ১৯৬৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্যদিয়ে রাজনীতিতে আসেন। ১৯৬৯-১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গৌরনদী কলেজ শাখার সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে কালকিনি উপজেলা সেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান ছিলেন। উল্লেখ্য যে, সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক সাহেব যখন বাংলাদেশ সেচ্ছাসেবক বাহীনির প্রধান ছিলেন।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানিজিং কমিটিতে তার নাম রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য রমজানপুর ইউনিয়নের ডিগ্রীচর ফাজিল মাদ্রাসার ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও পদাদিকার বলে মাদারীপুর জেলার রেড ক্রিসেন্ট এর সভাপতি। মাদারীপুর জেলায় তিনি এক মাত্র ব্যাক্তি যিনি সরকারী চাকরি করা অবস্থায়  রাজনৈতিক দল (আওয়মী লীগ)করেছেন। এ জন্য তাকে অনেক খেসারত ও দিতে হয়েছিলো। রাজনৈতিক জীবনে কয়েক বার তিনি কারা বরন করেছিলেন।বঞ্চিত হয়েছিলেন চাকরির সকল সুবিধা থেকেও।

 

 

মাদারীপুর জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানঃ

২০১১ইং সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মিয়াজ উদ্দিন খানকে মাদারীপুর জেলা পরিষদের জেলা প্রশাষক নিয়োগ করেন। তিনি দক্ষ নিষ্ঠা ও সততার সহিত দির্ঘ্য ৫বৎসর দায়িত্ব পালন করেন। তাহার দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট হয়ে ২০১৬ইং সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা পূনরায় তাকে জেলা পরিষদের চেয়াম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মননীত করেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে তার নিকট তম প্রতিদন্দী এডভোকেট সুচিত চ্যাটার্জি (বাপ্পি)কে পরাজিত করে ৫বৎসরের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি পেয়েছিলেন ৭৬৩ ভোট, নিকটতম প্রার্থী পান ৪২ ভোট।

মাদারীপুর জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি ছিলেন একজন সৎ যোগ্য ও দক্ষ জন প্রতিনিধি। তার দক্ষতা বিচক্ষনতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে মাদারীপুর জেলা পরিষদ আজ সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। তিনি সন্ত্রাস নির্মূল, দূর্নীতি দমন, মাদক বিরোধী অভিযান, বাল্য বিবাহ বন্ধ, ইভট্রিজিং প্রতিরোধসহ সকল অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠিন হুশিয়ারী দেন ও যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন তাই মাদারীপুর বাসীর নিকট আলোচিত ও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন। যদিও তিনি আওয়ামী সমর্থীত চেয়ারম্যান। তারপরেও সকল রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের সাথে তাহার সু-সম্পর্ক রয়েছে। একজন চেয়ারম্যান হিসাবে দলমত নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকতেন। মাদারীপুরবাসী নির্ভয়ে মনখুলে তাদের সমস্যার কথা তার কাছে বলতে পারত চেয়ারম্যান ও অধীর আগ্রহ ও র্ধৈয্যের সাথে মাদারীপুরবাসীর কথাগুলো শুনতেন ও সমাধানের সর্বাত্নক চেষ্টা করতেন।  তিনি মাদারীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যেমনঃ ১. রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভাট, যাত্রী ছাউনী, টলঘর, নির্মাণ সহ সকল প্রকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ২. শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, ও মসজিদ মাদ্রাসা উন্নয়নের জন্য বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা করে আসছেন। ৩. গরীব ও মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান করেছেন। ৬. বিশুদ্ধ পানি পান করার লক্ষে স্কুল মাদ্রাসা, হাট বাজারে বিভিন্ন লোকালয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। ৪. আর্থ কর্মসংস্থানের লক্ষে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। ৫. সাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশনের জন্য হাট বাজারে বিভিন্ন লোকালয়ে গন টয়লেট ও লেট্রিন নির্মান করেছেন। ৬. বিদ্যূৎ সংযোগসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত  মরহুমরের ছোট ছেলে কেএম শাখাওয়াত মুন ( প্রধান মন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব-২) বলেন আমরা আব্বুর  লাশ নিয়ে বাড়ীর উদ্দেশ্য যাচ্ছি আজ বাদ জুম্মা মাদারীপুর পৌরসভা ঈদ গাহ মাঠে গার্ড অব অনার দেওয়ার পরে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং দ্বিতীয় নামাজে জানাজা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হবে  আজ বাদ আসরের সময় তার নিজ বাড়ী সাহেব রামপুরে। নামাজে জানাজা শেষে মরহুমকে তার নিজ বাড়ীতেই পারিবারিক কবর স্হানে দাফন করা হবে। আপনারা সবাই আমার আব্বুর জন্য দোয়া করবেন সে যেন ওপারে ভালো থাকেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By insafit.Com.bd